Train এ করে চলেছি, কোলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালোরের পথে; আমার প্রিয় সাইড লোয়ার বার্থেই বসে আছি জালনা র বাইরে তাকিয়ে, জালনার বাইরের ছোট ছোট দৃশ্য আর ২৪ঘন্টার এ সি কামরায় জার্নির একঘেয়েমি বার বার ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে স্কুলের ছাত্রীটির কাছে।
ছোটবেলা থেকেই পড়া বই আর তার চরিত্রগুলোকে নিয়ে অদ্ভূত একটা জগতে বাস করতাম আমি, আসলে আজও তাই করি; মাঝে মাঝে ঘোর ভেঙ্গে যায় বুঝি বাস্তবটা অন্যরকম তবু নিজস্ব বিশ্বাস আর ঐ ভালোলাগার জগতটাতেই ঢুকে পড়ি আবার।
"তিমুর ও তার দলবল" যখন পড়ি তখন কি বিশ্বাস হয় যে আমি ওখানে নেই... কখনো হয়ে যাই ওলগা আর কখনো জিনিয়া, বাস্কেট বল কোর্টের ধুপ ধুপ শব্দ যেন আমার বুকেও বাজে। "পারীর পতন" এ দেনিস র বাড়ি ছাড়া, মিশো র দৃঢ় বিশ্বাস থেকে তো আজ আমি বিশ্লেষণ করতে শিখলাম নিজেকে। আমার রক্তে মিশে গিয়েছে এরা। বার বার বাইরে তাকিয়ে দেখছি ধানের খেত আর ফিরে যাচ্ছি সদ্য পড়া "পাকা ধানের গান" র গ্রামগুলোতে; এই চরিত্রগুলো, এদের সৃষ্টি কর্তা, তাদের চিন্তা আর আমার কল্পনা, আমার আন্তরজগতকে এতই পরিপূর্ণ রাখে যে কোন ক্লীন্নতাই এখানে জায়গা পায়না।
যাক সে সব কথা, বাস্তবে এখন পাটিসাপ্টা আর গোকুলপিঠের রেসিপি আর পদ্ধতি নিয়ে বিশাল ধুন্ধুমার চলছে। উফ, রান্না করতে কি করে এত ভালোবাসতে পারে মানুষ !এবার শুরু হল গয়না, তার ডিজাইন ... হে ভগবান, আমাকে সাক্ষী? সবাই তো জানই আমি কাতদূর জংলী আর অশিক্ষিত! কানে এবার MP 3 player র কর্ড টা গুঁজে দিয়েছি; নিশ্চিন্ত।
একটু আগে হেলান দিয়ে মাথার উপর দু'টো হাত তুলে বসেছিলাম; অনুভব করতে পারছিলাম এরফলে কামিজের পাশের কাটা অংশ টা দিয়ে হয়ত পেট আর কোমরের খানিকটা দেখা যাচ্ছে, তবুও ভ্রূক্ষেপহীন ভাবে বসেই ছিলাম (পর্দা টা টেনে নিলাম অল্প); কারণ মনে মনে পৌঁছে গিয়েছিলাম সেন্ট মাড়্গারেটস স্কুলের ক্লাস IV A তে; ক্লাসে গন্ডগোল করবার জন্য পুরো ক্লাস কে মাথায় হাত দিয়ে বেঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন অঞ্জলিকা দি। আহা কি আনন্দ যে হয়েছিল আমার , মহা মজায় জালনা দিয়ে পাশে স্কটিশ চার্চ কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কীর্তি কলাপ দেখছিলাম।
ক্লাস VIII, রেইনি ডে র আশায় ইচ্ছে করে বৃষ্টি ভেজার অপরাধে কান ধরে হাই বেঞ্চের উপর দাঁড়াতে হয়েছিল হোল ক্লাস কে, আর পাশেই ছিল ক্লাস V, সেদিন খুব বাজে লেগেছিল।
আমার ক্লাস VII আর বুনু V, একদম ছেলেমানুষ ছিল আমার বুনু টা, আমাকে ছেড়ে মোটে থাকতেই পারতোনা, টিফিনের পরে আলাদা হ'বার আগে পরস্পর কে জড়িয়ে ধরলাম আমরা; আর এই অভূতপূর্ব দৃশ্য টি চোখে পড়ল লাইব্রেরিয়ান গীতা দি'র; ব্যাস ব্যাবহারিক সভ্যতা সম্পর্কিত একখানি বক্তৃতা হজম করতে হ'ল। ফল স্বরূপ তারপর থেকে দিদিমনি পরিচিত হয়ে গেলেন "ব্যাবিলনীয় অসভ্যতা" নামে। আর এই কাজটিতে বিশেষ দড় ছিলাম আমি। এর'ম কত সুন্দর সুন্দর নামই না দিয়েছি আশেপাশে র মানুষ জনেদের; কিন্তু আমার ভালোমানুষ মার্কা চেহারাটির জন্য বরাবরই পার পেয়ে গিয়েছি আমি।কেউ ভাবতেই পারেনি যে এই ভালমানুষ চেহারার পিছনে এরকম তিলেখচ্চর একটি মেয়ে থাকতে পারে।
স্কুলে বাংলা টীচার কাবেরীদি অদ্ভূত ভালোবাসতেন আমায়, কেন কে জানে, মুখে কখনো কিছু বলতেন না; এক নম্বর ফাঁকিবাজ ছিলাম আমি, লেখা র সময় শুধু মনে রাখতাম মা'র কথাটা, "সাহিত্যের মূল বিষয় হলো ভালোবাসা", ব্যাস ওই ভেঙ্গেই চলতো। জীবনে কোনদিন তো একটা রচনা পড়িই নি, পরীক্ষা র সময় সবচেয়ে সহজ রচনা টা কোনক্রমে লিখে হল ছেড়ে বে্রোতাম। একবার ক্লাসে কাবেরীদি লিখতে দিলেন "বইমেলা" রচনা টি, চুটিয়ে লিখলাম, বই + মেলা ; খুব ভালো লাগলো লিখতে।খাতা দেখে উনি তো খাতা ফেরত দিলেন। এবার ফাইনাল পরীক্ষায় দেখি আন্যান্য রচনার সাথে বইমেলা ও আছে। লিখলাম,খুব স্বাভাবিকভাবেই তা ক্লাসের লেখাটির মত হলোনা, কারণ ঐ লেখাটি লেখার পর তো আর দ্বিতীয়বার খাতা খুলে দেখিনি (আমি তো বিশাল দার্শনিক, ওসব পরীক্ষার নম্বর নিয়ে মাথা ঘামানো কি আর আমায় মানায়)। রেসাল্ট বেরোল; নতুন ক্লাস, ক্লাস নাইন, মানে নতুন শাড়ি, ব্যাপার ই আলাদা... একদিন কি এক কাজে টিচার্স কমন রুমে গিয়েছি, দিদিমনি আলাদা ক'রে ডেকে বললেন, "ভাস্বতী, পরীক্ষার খাতায় ক্লাসের লেখাটা লিখলে না কেন?' ভীষণ খারাপ লেগেছিল, দিদিমনি ও যে আমার থেকে কিছু চাইতে পারেন, আর আমি দেই নি, এই খারাপ লাগাটা ...
আমার ক্লাস VIII র বাংলা ক্লাস কপি টা আজ ও কাবেরীদি'র কাছেই আছে।
ছোটবেলা থেকেই পড়া বই আর তার চরিত্রগুলোকে নিয়ে অদ্ভূত একটা জগতে বাস করতাম আমি, আসলে আজও তাই করি; মাঝে মাঝে ঘোর ভেঙ্গে যায় বুঝি বাস্তবটা অন্যরকম তবু নিজস্ব বিশ্বাস আর ঐ ভালোলাগার জগতটাতেই ঢুকে পড়ি আবার।
"তিমুর ও তার দলবল" যখন পড়ি তখন কি বিশ্বাস হয় যে আমি ওখানে নেই... কখনো হয়ে যাই ওলগা আর কখনো জিনিয়া, বাস্কেট বল কোর্টের ধুপ ধুপ শব্দ যেন আমার বুকেও বাজে। "পারীর পতন" এ দেনিস র বাড়ি ছাড়া, মিশো র দৃঢ় বিশ্বাস থেকে তো আজ আমি বিশ্লেষণ করতে শিখলাম নিজেকে। আমার রক্তে মিশে গিয়েছে এরা। বার বার বাইরে তাকিয়ে দেখছি ধানের খেত আর ফিরে যাচ্ছি সদ্য পড়া "পাকা ধানের গান" র গ্রামগুলোতে; এই চরিত্রগুলো, এদের সৃষ্টি কর্তা, তাদের চিন্তা আর আমার কল্পনা, আমার আন্তরজগতকে এতই পরিপূর্ণ রাখে যে কোন ক্লীন্নতাই এখানে জায়গা পায়না।
যাক সে সব কথা, বাস্তবে এখন পাটিসাপ্টা আর গোকুলপিঠের রেসিপি আর পদ্ধতি নিয়ে বিশাল ধুন্ধুমার চলছে। উফ, রান্না করতে কি করে এত ভালোবাসতে পারে মানুষ !এবার শুরু হল গয়না, তার ডিজাইন ... হে ভগবান, আমাকে সাক্ষী? সবাই তো জানই আমি কাতদূর জংলী আর অশিক্ষিত! কানে এবার MP 3 player র কর্ড টা গুঁজে দিয়েছি; নিশ্চিন্ত।
একটু আগে হেলান দিয়ে মাথার উপর দু'টো হাত তুলে বসেছিলাম; অনুভব করতে পারছিলাম এরফলে কামিজের পাশের কাটা অংশ টা দিয়ে হয়ত পেট আর কোমরের খানিকটা দেখা যাচ্ছে, তবুও ভ্রূক্ষেপহীন ভাবে বসেই ছিলাম (পর্দা টা টেনে নিলাম অল্প); কারণ মনে মনে পৌঁছে গিয়েছিলাম সেন্ট মাড়্গারেটস স্কুলের ক্লাস IV A তে; ক্লাসে গন্ডগোল করবার জন্য পুরো ক্লাস কে মাথায় হাত দিয়ে বেঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন অঞ্জলিকা দি। আহা কি আনন্দ যে হয়েছিল আমার , মহা মজায় জালনা দিয়ে পাশে স্কটিশ চার্চ কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কীর্তি কলাপ দেখছিলাম।
ক্লাস VIII, রেইনি ডে র আশায় ইচ্ছে করে বৃষ্টি ভেজার অপরাধে কান ধরে হাই বেঞ্চের উপর দাঁড়াতে হয়েছিল হোল ক্লাস কে, আর পাশেই ছিল ক্লাস V, সেদিন খুব বাজে লেগেছিল।
আমার ক্লাস VII আর বুনু V, একদম ছেলেমানুষ ছিল আমার বুনু টা, আমাকে ছেড়ে মোটে থাকতেই পারতোনা, টিফিনের পরে আলাদা হ'বার আগে পরস্পর কে জড়িয়ে ধরলাম আমরা; আর এই অভূতপূর্ব দৃশ্য টি চোখে পড়ল লাইব্রেরিয়ান গীতা দি'র; ব্যাস ব্যাবহারিক সভ্যতা সম্পর্কিত একখানি বক্তৃতা হজম করতে হ'ল। ফল স্বরূপ তারপর থেকে দিদিমনি পরিচিত হয়ে গেলেন "ব্যাবিলনীয় অসভ্যতা" নামে। আর এই কাজটিতে বিশেষ দড় ছিলাম আমি। এর'ম কত সুন্দর সুন্দর নামই না দিয়েছি আশেপাশে র মানুষ জনেদের; কিন্তু আমার ভালোমানুষ মার্কা চেহারাটির জন্য বরাবরই পার পেয়ে গিয়েছি আমি।কেউ ভাবতেই পারেনি যে এই ভালমানুষ চেহারার পিছনে এরকম তিলেখচ্চর একটি মেয়ে থাকতে পারে।
স্কুলে বাংলা টীচার কাবেরীদি অদ্ভূত ভালোবাসতেন আমায়, কেন কে জানে, মুখে কখনো কিছু বলতেন না; এক নম্বর ফাঁকিবাজ ছিলাম আমি, লেখা র সময় শুধু মনে রাখতাম মা'র কথাটা, "সাহিত্যের মূল বিষয় হলো ভালোবাসা", ব্যাস ওই ভেঙ্গেই চলতো। জীবনে কোনদিন তো একটা রচনা পড়িই নি, পরীক্ষা র সময় সবচেয়ে সহজ রচনা টা কোনক্রমে লিখে হল ছেড়ে বে্রোতাম। একবার ক্লাসে কাবেরীদি লিখতে দিলেন "বইমেলা" রচনা টি, চুটিয়ে লিখলাম, বই + মেলা ; খুব ভালো লাগলো লিখতে।খাতা দেখে উনি তো খাতা ফেরত দিলেন। এবার ফাইনাল পরীক্ষায় দেখি আন্যান্য রচনার সাথে বইমেলা ও আছে। লিখলাম,খুব স্বাভাবিকভাবেই তা ক্লাসের লেখাটির মত হলোনা, কারণ ঐ লেখাটি লেখার পর তো আর দ্বিতীয়বার খাতা খুলে দেখিনি (আমি তো বিশাল দার্শনিক, ওসব পরীক্ষার নম্বর নিয়ে মাথা ঘামানো কি আর আমায় মানায়)। রেসাল্ট বেরোল; নতুন ক্লাস, ক্লাস নাইন, মানে নতুন শাড়ি, ব্যাপার ই আলাদা... একদিন কি এক কাজে টিচার্স কমন রুমে গিয়েছি, দিদিমনি আলাদা ক'রে ডেকে বললেন, "ভাস্বতী, পরীক্ষার খাতায় ক্লাসের লেখাটা লিখলে না কেন?' ভীষণ খারাপ লেগেছিল, দিদিমনি ও যে আমার থেকে কিছু চাইতে পারেন, আর আমি দেই নি, এই খারাপ লাগাটা ...
আমার ক্লাস VIII র বাংলা ক্লাস কপি টা আজ ও কাবেরীদি'র কাছেই আছে।
This comment has been removed by the author.
ReplyDelete