আমি লোক টা একদম জিলিপির মত সরল তাই হয়তো জিলিপি খেতেও এত ভালোবাসি; তবে প্যাত প্যাতে রক্তাল্পতায় ভোগা সাদাটে জিলিপি নয়, পুরুলিয়ার বিখ্যাত অমৃতি । পুরুলিয়ায় গেলে এটা জানাই থাকে যে একদিন সকালে জিলিপি আনা হবেই, তো এবার এত কম সময়ের জন্য গেলাম আর এত রকম ঝুট ঝামেলার মধ্যে ছিলাম যে সে আর হয়েই উঠছিল না। যাইহোক , আসার আগের দিন সকালে লাল্টুকে বললাম, ( না না আমার জন্য নয়... না হলে মায়ের মনে পরে খুব কষ্ট হত কিনা, পরের বার আমি না যাওয়া অব্দি বাড়িতে আর জিলিপির প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যেত , আমার মত নরম মনের মেয়ে এটা কি ঘটতে দিতে পারি?) "ভাই টি জিলিপি..." তা কি যে হল, হয়ত পাওয়াই গেলো না অথবা লাল্টু ভুলেই গেলো... সকালে জুন কে স্কুলে পৌঁছে ও বাড়ি ফিরল খালি হাতে। যাই হোক একটু পরেই ওর বাইকের পিছনে বসে গেলাম ওবাড়ি (মামাবাড়ি) মা (দিদিমা)র সাথে দেখা করতে, মা আমাকে মায়ের একটা শাড়ি (এটা পরেই মা লাস্ট দিন স্কুল করেছিল) আর জ্যোতির্ময়ী দেবীর লেখা একটি বই দিলেন; মায়ের সাথে গল্প হছিল আমাদের ছোটবেলা, মায়ের স্কুল, ছাত্র ছাত্রীরা, মায়ের ছোটবেলা, রংপুর কলেজ এইসব... মা তারপর গান শোনালেন... যথারীতি ফিরতে দেরী।
রাস্তায় বেড়িয়ে বললাম, "রাঁচি রোড দিয়ে ফিরবি লালভাই?" ও এককথাতেই রাজী হয়ে গেলো। এ'টা পুরুলিয়ার অন্যতম একটা প্রিয় রাস্তা আমার, ঝক ঝকে কালো পিচের রাস্তা আর দুপাশে ছায়া ছায়া পুরান গাছ, মুহূর্তে মনের মধ্যে ভীড় করে আসে কত স্মৃতি। গভরমেন্ট গার্লস হাই স্কুল, আমার মাধ্যমিক আর উচ্চমাধ্যমিক দু'টি পরীক্ষার সিটই এখানে পড়েছিল। ওর পাশে দিদির বন্ধু শর্বাণী দিদিদের বাড়ি টা ভেঙ্গে কি যেন একটা বিশাল হাইরাইজ তৈরী হচ্ছে।"ইশ, পুরুলিয়া টাওএবার এই contractor দের হাতে চলে যাচ্ছে, কোত্থেকে যে এই ভুঁইফোড় শ্রেণীটার উতপত্তি হ'ল", মনে মনে ভাবছিলাম আমি, আসলে রাস্তায় দেখলাম, বিটি সরকার রোডে লাইব্রেরীর পাশে "রাধাকুঞ্জ" বাড়িটা ভেঙ্গে একটা বিশাল ফ্লাটবাড়ি তৈরী হয়েছে; মোটে ভালো লাগছিলো না। ছোটবেলায় কতদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে দেখেছি ওই বাড়িটার বিশাল গেটটার পাশের রকটায় বসে আছে পল্টুমামু, আমার তো অনেক বড় বয়স অব্দি ধারণা ছিল ওটাই ওদের বাড়ি।
রাঁচি রোড দিয়ে যেতে যেতে সার্কিট হাউসের (ছোটবেলায় আমার কেন যে ধারণা ছিল সার্কিট হাউসের সাথে ইলেক্ট্রিসিটির একটা যোগ আছে, মনে হয় ওই "সার্কিট" শদটির জন্যই) উল্টোদিকের মিষ্টির দোকানটায় দাঁড়ালো লাল্টু। আমরা গরম জিলিপি আর সেউভাজা কিনলাম। গরম লং ভাজছিলো, আগে হলে sure কিনতাম - এখন মনে হ'ল, দুপুরবেলা এগুলো কে খাবে, খেলেই তো অ্যাসিড অবধারিত। বাইক টা ডি এম বাংলোর পাশ দিয়ে বাঁক ঘুরলো, মনে মনে ভাবছিলাম; ঠিক এভাবেই বোধহয় শৈশব কে দূরে ঠেলে দিই আমরা; আমাদের গায়ের থেকে হারিয়ে যায় শৈশবের চেনা রোদের গন্ধ, অচেনা ঠেকে মাটির সোন্দা গন্ধ, খেলা ঘর; পড়ে থাকে চেনা শহর, গ্রাম, প্রিয় রাস্তা, বুনোফুল, কাঁচ পোকা... আর আমরা সুখের খোঁজে উড়ান ভরি। এখন আমাদের পরিশীলিত চোখে পুরোন এই শহর টা পিছিয়ে পড়া আর শ্লথ, তবুও কেন বুকের মধ্যে রিণ রিণে একটা কষ্ট?
রাস্তায় বেড়িয়ে বললাম, "রাঁচি রোড দিয়ে ফিরবি লালভাই?" ও এককথাতেই রাজী হয়ে গেলো। এ'টা পুরুলিয়ার অন্যতম একটা প্রিয় রাস্তা আমার, ঝক ঝকে কালো পিচের রাস্তা আর দুপাশে ছায়া ছায়া পুরান গাছ, মুহূর্তে মনের মধ্যে ভীড় করে আসে কত স্মৃতি। গভরমেন্ট গার্লস হাই স্কুল, আমার মাধ্যমিক আর উচ্চমাধ্যমিক দু'টি পরীক্ষার সিটই এখানে পড়েছিল। ওর পাশে দিদির বন্ধু শর্বাণী দিদিদের বাড়ি টা ভেঙ্গে কি যেন একটা বিশাল হাইরাইজ তৈরী হচ্ছে।"ইশ, পুরুলিয়া টাওএবার এই contractor দের হাতে চলে যাচ্ছে, কোত্থেকে যে এই ভুঁইফোড় শ্রেণীটার উতপত্তি হ'ল", মনে মনে ভাবছিলাম আমি, আসলে রাস্তায় দেখলাম, বিটি সরকার রোডে লাইব্রেরীর পাশে "রাধাকুঞ্জ" বাড়িটা ভেঙ্গে একটা বিশাল ফ্লাটবাড়ি তৈরী হয়েছে; মোটে ভালো লাগছিলো না। ছোটবেলায় কতদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে দেখেছি ওই বাড়িটার বিশাল গেটটার পাশের রকটায় বসে আছে পল্টুমামু, আমার তো অনেক বড় বয়স অব্দি ধারণা ছিল ওটাই ওদের বাড়ি।
রাঁচি রোড দিয়ে যেতে যেতে সার্কিট হাউসের (ছোটবেলায় আমার কেন যে ধারণা ছিল সার্কিট হাউসের সাথে ইলেক্ট্রিসিটির একটা যোগ আছে, মনে হয় ওই "সার্কিট" শদটির জন্যই) উল্টোদিকের মিষ্টির দোকানটায় দাঁড়ালো লাল্টু। আমরা গরম জিলিপি আর সেউভাজা কিনলাম। গরম লং ভাজছিলো, আগে হলে sure কিনতাম - এখন মনে হ'ল, দুপুরবেলা এগুলো কে খাবে, খেলেই তো অ্যাসিড অবধারিত। বাইক টা ডি এম বাংলোর পাশ দিয়ে বাঁক ঘুরলো, মনে মনে ভাবছিলাম; ঠিক এভাবেই বোধহয় শৈশব কে দূরে ঠেলে দিই আমরা; আমাদের গায়ের থেকে হারিয়ে যায় শৈশবের চেনা রোদের গন্ধ, অচেনা ঠেকে মাটির সোন্দা গন্ধ, খেলা ঘর; পড়ে থাকে চেনা শহর, গ্রাম, প্রিয় রাস্তা, বুনোফুল, কাঁচ পোকা... আর আমরা সুখের খোঁজে উড়ান ভরি। এখন আমাদের পরিশীলিত চোখে পুরোন এই শহর টা পিছিয়ে পড়া আর শ্লথ, তবুও কেন বুকের মধ্যে রিণ রিণে একটা কষ্ট?
ভাল লাগল।
ReplyDelete:)
ReplyDeleteThank you Saikat
pore vishon comfortable lagche... warmly..childhood..homely..feeling!!
ReplyDeletespecialy laster charti line..
..r.. amar o.. circuit house - electricity - kichu related ache.. mone hoto!
..june ke go?
June, didi r meye re... valo legeche jene valo laglo.
DeleteThis comment has been removed by the author.
ReplyDelete